দাউদকান্দির বলদাখাল-শ্রীরায়েরচর সড়কে চরম জনদুর্ভোগ
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ এএম | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল থেকে মতলব সড়কটির পাঁচ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ কাজ নতুনভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হলেও কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এত ধীরগতিতে কাজ করার কারণে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কে চলাচলরত কয়েক জেলার সাধারণ যাত্রী ও চালকদের। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় যাতায়াত করে। অতি ধীর গতিতে সংস্কার কাজ চলার কারণে জনদুর্ভোগ তীব্র থেকে অতি তীব্রতর হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কটির কাজির কোনা থেকে গোয়ালমারী পর্যন্ত চরম বেহাল অবস্থা। রাস্তার কাজিরকোনা ও দৌলতদি অংশে রাস্তার একপাশে প্রায় ১৫ দিন ধরে অর্ধ বাধা রড আরসিসি ঢালাই এর জন্য প্রস্তুত করেছে। আরেক পাশ খোলা রেখেছে যাতায়াতের জন্য। এই সরু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের কাঁচা অংশের ধুলা ও নির্মাণ সামগ্রীর ধুলা উড়ছে। যা পথচারী ও যানচালকদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের গর্ত, এবড়োখেবড়ো ও উঁচুনিচু সড়কে গাড়ি আটকে যাওয়াসহ অহরহ অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়করাপুর স্টিলের সেতুর উভয় পাশে যানজট লেগে থাকছে দীর্ঘ সময়।
শ্রীরায়েরচর ব্রিজের সংযোগস্থলের রাস্তার ইট, পাথর ও পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে গাড়ি উঠানামার সময় গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকে। বেশ কয়েকটি ব্রিজের এ্যাপরোচে মাটি সরে গেছে, নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি সেতুর রডে মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে।
এদিকে এই সড়কটি প্রশস্তকরণ কাজটি দেড় বছরের মেয়াদে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও কাজ শুরু হওয়ার পর পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তার এই বেহাল দশা। আর এর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কে চলাচলরত যাত্রীসাধারণসহ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বলদাখাল থেকে মতলব সড়কটির দাউদকান্দির শ্রীরায়েরচর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্ধারণ করে ২০২১ সালের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় থেকে দের বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি।
কারন, নির্মিত সড়কটির ঢুলি নসরুদ্দি ও সোনাকান্দা মাদরাসা হতে শ্রীরায়েচর বাজার পর্যন্ত অংশে অনেক বসত বাড়ি, বিল্ডিং ও মাদরাসা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এই সকল অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদেরকে ২০২২ সালে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। আর টাকা না পাওয়ায় সড়কের জন্য ভূমি ছাড়ছিল না জমির মালিকেরা। সে কারণে রাস্তার অধিকাংশ নির্মাণ অসমাপ্ত রেখেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালে ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স আদ্রিতা কনস্ট্রাকশনকে দেয়া হয়। রাস্তার বিভিন্ন অংশের প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য এই চুক্তি করা হয়।
শ্রীরায়েরচর খালিশা বাজারের সভাপতি এস এম মনির হোসেন বলেন দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পরে যদিও রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে যার গতি এতটাই ধীর যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। দ্রুতগতিতে কাজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
গোয়ালমারী বাজারে দোকানদার হালিম মিয়া বলেন— দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ার কারণে বাজারে ভেতর দিয়ে চলমান এই রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি এলে গর্তে পানি জমে যায় গাড়ি চলাচলের সময় এই কাদা পানি দোকানের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে এবং পথচারীদেরও জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলরত মো. খোকন মিয়া, রাজু প্রধানসহ অনেক সিএনজি চালক বলেন ভাঙা রাস্তায় সিএনজি চালানোর কারণে এক্সেল, ব্রেকশো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হই। যাত্রী ও চালকদের গা-হাত-পা ব্যথা হয়ে যায়। এতো ধীর গতিতে কাজ করলে আমাদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। দ্রুতগতিতে রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে আমরা এই অবস্থা থেকে রেহাই পাবো।
কাজিরকোনা গ্রামের হাবিবুর রহমান (দোকানদার) বলেন, অধিকাংশ সময় কয়রাপুর স্টিল ব্রিজের উভয় পাশে দীর্ঘ সময় যানজট থাকার কারণে বলদাখাল সিএনজি স্টেশন ও শ্রীরায়েরচর সিএনজি স্টেশনে কোন সিএনজি থাকে না এতে অনেক যাত্রী দীর্ঘক্ষণ সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যা একটি বড় ধরনের জনদুর্ভোগ। এত অসুবিধার শর্তেও ধীরগতিতে কাজ সম্পাদন করলে এই রাস্তায় চলাচলরত জনগনের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লা জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা সমাধান হয়েছে। বলদাখাল থেকে শ্রীরায়েরচর ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের অসমাপ্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নতুন টেন্ডার এর ভিত্তিতে মেসার্স আদ্রিতা কন্সট্রাকশনকে দেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রাস্তাটি আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ধীর গতিতে কাজ চলছে প্রশ্নের জবাবে তিনি ইনকিলাবকে বলেন দ্রুততম সময়ে কাজ সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
এ সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ে সম্পূর্ণ না করলে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই সচেতন মহল দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
বিভাগ : অভ্যন্তরীণ
মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন
এশিয়ান গেমস শেষ বরুণের
সৈয়দপুরে উর্দূভাষীদের মানববন্ধন: বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃতির দাবি
কালিয়াকৈরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়
কারিগরি দক্ষতা ও বিদেশি ভাষা না জানায় প্রবাসে পিছিয়ে বাংলাদেশিরা
৩০ বলে সেঞ্চুরিতে অভিষেকের রেকর্ড
হাসান নয়, অগাস্টের সেরা দিনুশা
চালুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বন্ধ সিইউএফএল
পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি
খুবিতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি’: সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
ইসরায়েলের উপস্থিতির প্রতিবাদে আবারও ইউরোভিশন বয়কটের ঘোষণা আয়ারল্যান্ডের
প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের দেশে মাদক ঢুকিয়ে দিচ্ছে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
উইলিয়াম-কেটের স্কটল্যান্ড সফর, এআই নিয়ে সতর্কবার্তা রাজা চার্লসের
ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
"প্রাইড অব বাংলাদেশ"-ঢাকার রিংয়ে বাংলাদেশ বনাম বিশ্ব
কুমিল্লার আদালত চত্বরে পুলিশ হেফাজত থেকে আসামির পলায়ন, তিন ঘণ্টা পর গ্রেফতার
অবসর ঘনিয়ে এলেও থামেনি ঘুষবাণিজ্য: নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে পিতা-পুত্রের ‘সিন্ডিকেট’
রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বারভিডার কর্মবিরতি
২০২৮ সালের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন এরদোগান